প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য অর্জনে বছরে কোটি ডলার বিনিয়োগ
||
২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা ২০ শতাংশে উন্নীত করতে প্রতিবছর ৯৮ কোটি ডলার প্রয়োজন।বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের আমূল পরিবর্তনে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রতিবছর ৯৩৩ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন। সম্প্রতি ড্যাক্কা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দাইরা) আয়োজিত ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমান সক্ষমতা এবং লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বিশাল ঘাটতি রয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ গ্রিড বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করতে হলে প্রতিবছর অন্তত ৭৬০ মেগাওয়াট নতুন সক্ষমতা যুক্ত করতে হবে।গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট গ্রিড বিদ্যুতের মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, যেখানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সক্ষমতা ছিল মাত্র ৩৫৮ মেগাওয়াট। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৫০ পয়সা, যা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এছাড়া ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে গত সেপ্টেম্বর মাসে ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ৩১টি প্রকল্প বাতিল হওয়া খাতটির অনিশ্চয়তা স্পষ্ট করেছে।বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়ন নিয়ে র্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার্সের সিওও মোহাম্মদ সুবাইল বিন আলম জানান, বর্তমান গ্রিড কেবল একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য উপযোগী। বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ বিস্তারে দ্বিমুখী নেটওয়ার্ক, এসসিএডিএ (SCADA) সিস্টেম এবং উন্নত ব্যাটারি স্টোরেজের বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের জন ফ্লুহার্টি সরকারি অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ছাড়া জ্বালানি রূপান্তর সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা ও অভিন্ন তথ্যের সহজলভ্যতা প্রত্যাশা করছেন।সবশেষে অধ্যাপক ড. সাকিব বিন আমিন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অপচয় কমিয়ে সঞ্চালন দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে বিওটি মডেলের কার্যকারিতা তুলে ধরেন। জ্বালানি খাতের তথ্যভাণ্ডার ডিজিটালাইজেশন এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবকাঠামো ও আর্থিক কৌশলের সমন্বিত পরিকল্পনায় বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা।সূত্র: ড্যাক্কা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দাইরা)পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ