প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
সোনারগাঁয়ে সাড়ে সাতশ বছরের প্রাচীন গ্রন্থাগারের ধ্বংসাবশেষের ইতিহাস
ইমরান হোসাইন , স্টাফ রিপোর্টার ||
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শায়খ আবু তাওয়ামার প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রের নিদর্শন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকরা।নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এলাকায় আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় সাড়ে সাতশ বছরের পুরোনো ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র ও ঐতিহাসিক গ্রন্থাগারের ধ্বংসাবশেষ। ত্রয়োদশ শতকের শেষভাগে ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন এই স্থানটি মধ্যযুগীয় বাংলার জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ইতিহাসে স্বীকৃত, যেখানে হাদিস, ফিকহ ও আইনশাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিত পাঠদান করা হতো এবং দেশ-বিদেশের বহু শিক্ষার্থী এখানে জ্ঞান অর্জনের জন্য আসতেন।ঐতিহাসিক তথ্যমতে, শায়খ আবু তাওয়ামার প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি তৎকালীন সময়ে কেবল ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, বরং বিভিন্ন জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল। বিশ্বখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে এই শিক্ষাকেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে সোনারগাঁ তৎকালীন বিশ্ব মানচিত্রে শিক্ষা ও বাণিজ্যের এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। কালের বিবর্তনে মূল স্থাপনা হারিয়ে গেলেও মোগরাপাড়ার ষোলপাড়ায় এখনো টিকে রয়েছে এর কিছু প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় এবং নজরদারির অভাবে এই অমূল্য সম্পদ বিলুপ্তির পথে। সচেতন মহল ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের মতে, স্থানটিতে বৈজ্ঞানিক জরিপ চালানো ও তথ্যফলক স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এই গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা জানতে পারে।বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঐতিহাসিক এই স্মারকটি রক্ষা করা সম্ভব হলে সোনারগাঁয়ের প্রাচীন জ্ঞানচর্চার ইতিহাস আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠবে। গবেষকরা দ্রুত সরকারিভাবে এলাকাটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মধ্যযুগের এই অমূল্য স্মৃতিস্তম্ভটি চিরতরে হারিয়ে না যায়।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ