প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে রাষ্ট্রপতির বিশেষ আহ্বান
||
বঙ্গভবনে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার বঙ্গভবনে বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার মতে, মিয়ানমারের নাগরিকদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বেইজিংয়ের সক্রিয় উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি, যা দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।সাক্ষাৎকালে তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস খাতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের মতো আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেন। তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের কারিগরি সহায়তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার ঐতিহাসিক সফরের কথা স্মরণ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের কথা উল্লেখ করে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসায় চীনা প্রযুক্তিগত সহায়তা কামনা করেন, যার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন চীনা ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশের এই সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুসংহত ও অর্থবহ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ