প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি এনসিপি নেতা পাটওয়ারীর
||
সরকারকে সতর্ক করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বললেন, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধ না হলে কঠোর প্রতিরোধচাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাফিয়াগিরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্র ও সমাজের কোনো স্তরেই চাঁদাবাজি ও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যারা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।চলতি বছরের ৪ মার্চ সিলেটে এনসিপির একটি দলীয় ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যাই থাকুক, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কিংবা মাফিয়াগিরিতে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সরকারকেও সতর্ক করে কঠোর ভাষায় বলেন, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর দল কঠোর অবস্থান নেবে।চাঁদাবাজির বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয় নয়; এটি অনেকের প্রতিদিনের বাস্তবতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি উদ্বেগ। ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কিংবা বাজারের সাধারণ বিক্রেতা—বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠলে তার চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়ে। ফলে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষেরও দীর্ঘদিনের দাবি।পাটওয়ারীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই উদ্বেগ। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও একই সঙ্গে যদি চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য চলতে থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাঁর মতে, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরোনো অনিয়মের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।এর আগেও চাঁদাবাজি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এনসিপির এই নেতা। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ময়মনসিংহে এক সমাবেশে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদাবাজদের তৎপরতা নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনের দায়িত্ব হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা, কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করা নয়।রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে চাঁদাবাজি বন্ধে বাস্তব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অভিযোগের পর অভিযোগ নয়, প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে তারও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।কারণ একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোর করে নেওয়া কয়েকশ টাকা তার কাছে হয়তো দিনের লাভের বড় অংশ। একজন পরিবহনশ্রমিকের কাছ থেকে আদায় করা অবৈধ অর্থ শেষ পর্যন্ত যাত্রীর ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। আর বাজারে একের পর এক এমন অতিরিক্ত ব্যয় জমতে জমতেই সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হুঁশিয়ারির রাজনৈতিক তাৎপর্য যাই হোক, চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জনস্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই বক্তব্যের পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেয়।চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি প্রয়োজন আইনের সমান প্রয়োগ, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো। কারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে শুধু হুঁশিয়ারি নয়—প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ