প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
||
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এমন মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।মঙ্গলবার বঙ্গভবনে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা। শামীমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে দেশ ও বিদেশের বর্তমান বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানান। এই সাক্ষাৎ ছিল মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রমের একটি ধারাবাহিক পর্যালোচনার অংশ।বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সনাতন ধারার বাইরে গিয়ে কর্মসংস্থানবান্ধব পাঠ্যক্রম যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে একটি বড় অন্তরায়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব দূর করতে না পারলে ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তির সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। রাষ্ট্রপতির এই আহ্বান কার্যত দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অসম্ভব। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্পের চাহিদার সাথে সমন্বয় করে গবেষণা ও হাতে-কলমে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বেকারত্ব তৈরি করা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার এই বার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত কর্মশালা, ইন্টার্নশিপ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে বাস্তবমুখী করে তোলাই এখন সময়ের প্রধান দাবি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।সাক্ষাৎকারে উপাচার্য অধ্যাপক শামীম বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতিকে আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার সম্মতি প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতির এই নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কত দ্রুত বাস্তবায়ন করে, তা এখন দেখার বিষয়। শিক্ষার আমূল সংস্কারই পারে নতুন প্রজন্মের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দুয়ার উন্মোচন করতে।সূত্র: বাসসপরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ