প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি
||
পাবনার ঈশ্বরদীতে কিশোর নিহতের ঘটনায় সাংবাদিককে জড়ানোর প্রতিবাদে গণমাধ্যমকর্মীদের বিক্ষোভ সমাবেশ।পাবনার ঈশ্বরদীতে এক কিশোর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক সৌরভ কুমার দেবনাথকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোরালো দাবিতে শনিবার ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের এক জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মান্নান টিপুর সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা স্পষ্ট জানান, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতেই ভিত্তিহীন অভিযোগে এই কলঙ্কজনক মামলা সাজানো হয়েছে।মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদীর মাজদিয়া ইসলামপাড়া এলাকার কিশোর মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক অভিযোগ ওঠে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার দীর্ঘ ১৮ দিন পর গত ২০ সেপ্টেম্বর নিহতের পিতা আনিছুর রহমান পাবনা জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে নালিশি মামলা করেন। আশ্চর্যজনকভাবে সেই তালিকায় স্থানীয় দৈনিক সংবাদ সারাবেলার উপজেলা প্রতিনিধি সৌরভ কুমার দেবনাথের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনার সময় ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতায় সৌরভের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও প্রতিহিংসামূলকভাবে তাঁকে জড়ানো হয়েছে।সমাবেশে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ আইনি তদন্তে প্রমাণিত হতে পারে। কিন্তু কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হত্যা মামলার মতো গুরুতর অপবাদ চাপানো স্বাধীন সাংবাদিকতার অস্তিত্বের জন্য চরম হুমকি। অতীতের বিভিন্ন পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে সত্য প্রকাশে সাহসী সাংবাদিকদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে প্রায়শই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা সমাজে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করে।বক্তারা অনতিবিলম্বে সাংবাদিক সৌরভকে এই বানোয়াট মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদানসহ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের শনাক্তের দাবি জানান। অন্যথায় গণমাধ্যমকর্মীরা বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ