প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জীবাশ্ম নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির আহ্বান পরিবেশবিদদের
||
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসভায় পরিবেশবিদ ও নদী বিশেষজ্ঞরা দেশের নদ-নদী রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। ‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক এই আয়োজনে প্রায় ৩৫টি পরিবেশবাদী সংগঠন অংশ নেয়। নদী, বন ও জলজ প্রতিবেশ রক্ষার তাগিদে টেকসই জ্বালানি কাঠামোর দিকে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন বক্তারা।বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞ তথ্যানুযায়ী, অপরিকল্পিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে যে দূষণ তৈরি হচ্ছে, তা জলজ বাস্তুসংস্থানকে চরম বিপদে ফেলছে। নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, জাতীয় সম্পদ হিসেবে নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করতে হলে টেকসই জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি, যা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা জরুরি।আলোচনাসভায় গবেষক কাজল রশীদ শাহীন ও শেখ রোকনসহ বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, নদী দখলমুক্ত করার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পরিবেশবাদী ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের মতে, উন্নয়ন যেন পরিবেশের সঙ্গে সংঘাত তৈরি না করে। আমীন আল রশীদসহ বিশিষ্টজনদের মতে, টেকসই ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর না ঘটলে মানুষের জীবন-জীবিকা ও সভ্যতা হুমকির মুখে পড়বে। এমন উদ্যোগ সাধারণ জনগণের মধ্যেও নদীর প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।পরিশেষে, আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। কেবল মেগা প্রকল্প নয়, বরং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যবহারই আগামীর নদী ও প্রকৃতিকে সুরক্ষা দেবে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আর দেরি করার সুযোগ নেই। সামগ্রিক বিবেচনায়, পরিবেশ ও উন্নয়নের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানই এখন রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ