প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩০ টন সার জব্দ
||
সীতাকুণ্ডে কার্গো বোটে সার লোড করার সময় কোস্টগার্ডের অভিযানে আটক দুই পাচারকারী।চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে কোস্টগার্ড। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ৩০ টন বা ৩০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারের কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতি ও কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ এই সারের চোরাচালান ঠেকাতে কোস্টগার্ডের এই তৎপরতাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।তদন্তে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র চোরাচালানের নতুন রুট হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলকে বেছে নিয়েছে। জব্দ করা সারের বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা। ট্রাক থেকে কার্গো বোটে সার স্থানান্তর করার সময় হাতেনাতে এই বড় চালানটি আটক করা হয়। সার পাচারের এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে।কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের অভ্যন্তরীণ কৃষিখাতে কৃত্রিম সংকট তৈরির নীল নকশা হতে পারে। সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত সারের অপব্যবহার এবং বিদেশে পাচারের ফলে প্রকৃত কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দ করা সার ও ট্রাকগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সীমান্তে এই ধরনের চোরাচালান রোধ করা এখন সময়ের দাবি।ভবিষ্যতে পাচারের এই রুটগুলো পুরোপুরি নির্মূল করতে উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয় চোরাচালানিদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল এ ধরনের জালিয়াতি রোধ সম্ভব। মামলার নথিপত্র প্রস্তুত করে দ্রুতই আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ।সূত্র: কোস্টগার্ডপরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ