প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার কাছে তিন গোলে হারল বাংলাদেশ
||
ফিফা আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বড় হারের স্বাদ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীরা ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছেন। প্রথমার্ধ থেকেই মালয়েশীয় ফরোয়ার্ডদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে রক্ষণভাগ বেশ নড়বড়ে ছিল, যা চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়েও পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের গোলমুখে আক্রমণ শাণানোর অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।ম্যাচ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মালয়েশিয়ার স্ট্রাইকার আরিফ আইমান ১৮ মিনিটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন। এরপর ৩৭ মিনিটে আবারও গোল করে নিজের জোড়া পূর্ণ করেন তিনি। ২০২২ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ৪-১ ব্যবধানের পরাজয়টি যেন আজও বাংলাদেশের ফুটবলারদের তাড়া করে ফিরছে। রক্ষণভাগের অদূরদর্শিতা এবং মাঝমাঠের সঙ্গে আক্রমণভাগের সমন্বয়হীনতা এই পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মালয়েশীয় রক্ষণব্যূহ ভাঙার মতো সৃজনশীল পরিকল্পনা ছিল না বাংলাদেশের কোচিং প্যানেলের কাছে।ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল সক্ষমতায় বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বার্গুসনের ৫২ মিনিটের গোলটি মূলত বাংলাদেশের পরাজয় নিশ্চিত করে দেয়। মাঠের খেলোয়াড়দের শারীরিক ভাষা এবং কৌশলগত প্রস্তুতির ঘাটতি বারবার ফুটে উঠেছে। এ ধরনের বড় আসরে সাফল্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল অন্তত একটি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল উপহার পাওয়ার, কিন্তু তা বাস্তবে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন বিপর্যয় বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে। ঘুরে দাঁড়াতে হলে রক্ষণভাগে পরিবর্তন এবং ফিনিশিংয়ের দিকে কঠোর নজর দিতে হবে খেলোয়াড়দের। মালয়েশিয়ার উচ্চমানের ফুটবলের বিপরীতে বাংলাদেশের এই হার ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আসিয়ান কাপের আসরে টিকে থাকতে হলে পরবর্তী প্রতিটি ম্যাচই এখন বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। সামগ্রিক পারফরম্যান্সের মানোন্নয়ন ছাড়া এই প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু করা কঠিন হবে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ