প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তদবির করলেই বিপদ: সরকারি কর্মচারীদের কঠোর সতর্কবার্তা সরকারের
||
চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে অযাচিত তদবির করলে নেওয়া হবে বিভাগীয় ব্যবস্থা, নির্দেশনায় এমনটাই জানাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য এখন থেকে তদবিরের পথ বন্ধ হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘তদবির সংস্কৃতি’ ভাঙতে সরকারি কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে প্রভাব খাটানো বা তদবির করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি সব সিনিয়র সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড এখন থেকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী বলে গণ্য হবে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর আলোকে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। মূলত, সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি এমন অনেক নজির দেখা গেছে যেখানে সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের উন্নতির জন্য বা চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে বাইরের প্রভাবশালীদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এটি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২০ নম্বর বিধির সরাসরি লঙ্ঘন এবং ২০১৮ সালের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার আওতায় অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী যদি তার পক্ষে অন্য কাউকে দিয়ে দপ্তরে তদবির করান, তবে সেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ডোসিয়ারে বা নথিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি কর্মচারীরা চাইলে তাদের যৌক্তিক দাবি বা আবেদন যথাযথ নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন এসব আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং মেধার ভিত্তিতে কর্মমূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই সরকারের এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা। এতে সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ