প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের হাতে বিদ্যুতের সুইচ, আদানি নিয়ে মন্তব্য রিজভীর
||
আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে থাকা সুইচ দিয়ে তারা যেকোনো সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ মূলত তাদের হাতেই। এই পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসলেও এর মূল সুইচ ভারতের হাতে থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ। রিজভী বলেন, এই পরিস্থিতির পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ আছে কি না তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘পতিত স্বৈরাচারী শক্তির ষড়যন্ত্র’ শিরোনামে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং সেখানের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে বিমসটেকের প্রধান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সাইডলাইনে বসানোর একটি পরিকল্পনা ছিল। দেশের মর্যাদা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী সেই অবস্থান গ্রহণ করেননি, যা তার দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে রিজভী মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও বিশ্ব পরিস্থিতির ফল। সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার আমলের তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। ভারতের কাছে পলাতক খুনিদের ফেরত না দেওয়া নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে সেনা কর্মকর্তাদের ফেরত দিলেও এখন কেন ১৪০০ ছাত্র-জনতার হত্যাকারীদের বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনসহ ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করতে পারবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্র-জনতা সব সময় দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ