প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ: শোকজের মুখে আরও ১০০
||
অনুমোদনহীন ও পরিকাঠামোবিহীন খারিজি মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রাজ্য প্রশাসন; যাচাই-বাছাই শেষে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। সম্প্রতি অনুমোদনহীন ও পরিকাঠামোহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে রাজ্যে ২৫২টি মাদ্রাসা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত নথিপত্র ও পরিকাঠামোর অভাবে আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমগ্র প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই কলকাতা সহ রাজ্যের সবকটি জেলায় মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি নির্দেশে শুরু হওয়া এই সমীক্ষায় মূলত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং অনুমোদনহীন মাদ্রাসার তালিকা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং শিক্ষার সঠিক গুণগত মান নিশ্চিত করতেই এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জরুরি।সমীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্টে উঠে আসা তথ্যগুলো বেশ উদ্বেগজনক। দেখা গেছে, রাজ্যের প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসার কোনো বৈধ সরকারি অনুমোদন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো, পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের ব্যাপক ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও নথিপত্র বিশ্লেষণের পর প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বন্ধ হওয়া এই মাদ্রাসাগুলোর অধিকাংশকেই ‘খারিজি মাদ্রাসা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোর পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা ছিল না বলে অভিযোগ।ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকদের কাছে এই নির্দেশনার অনুলিপি পাঠিয়ে দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শোকজের তালিকায় থাকা ১০০টি মাদ্রাসাকে তাদের পরিকাঠামো ও শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের যোগ্যতা এবং বৈধতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে রাজ্য প্রশাসন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।উল্লেখ্য যে, মাদ্রাসার আধুনিকীকরণ ও সংস্কারের এই ধারা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের অন্যান্য রাজ্য যেমন উত্তরাখণ্ডেও সম্প্রতি স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান শুরু হয়েছে। সেখানকার সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং শিক্ষার মূল স্রোতে মাদ্রাসাগুলোকে সম্পৃক্ত করতে একাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের এই পদক্ষেপকেও সেই বৃহত্তর সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং শিক্ষার্থীদের উন্নত ভবিষ্যৎ গড়াই তাদের মূল লক্ষ্য।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ