প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাসের দাম বাড়লেও সরবরাহ সংকটে ধুঁকছে দেশ
||
নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্তে মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিলেও কথা রাখেনি পেট্রোবাংলা; ৬১ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিলের চাপে বিপাকে বিসিআইসি।দেশের শিল্প ও কৃষি খাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত সার কারখানাগুলো এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বাড়িয়ে নিলেও, মাঠপর্যায়ে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন নেই। বরং গ্যাসের সরবরাহ না বাড়ায় সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে, আর কারখানাগুলোকে গুণতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল। এমন পরিস্থিতিতে বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) গ্যাসের দাম পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছে।বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে সার কারখানায় ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৯.২৫ টাকা করা হয়। শর্ত ছিল, শিল্প কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। কিন্তু সরবরাহ না বেড়ে উল্টো কমে যাওয়ার ফলে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে অনেক কারখানায়। এমনকি কারখানা যখন প্রিজার্ভেশনে থাকে, তখনও বর্ধিত মূল্যে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে বিসিআইসি। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই অল্প সময়ে সংস্থাটিকে অতিরিক্ত বিল বাবদ দিতে হচ্ছে প্রায় ৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এই বিশাল অংকের আর্থিক বোঝা দেশের সার শিল্পের জন্য অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।শিল্প সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে বিসিআইসি চেয়ারম্যান ড. মোঃ মাহমুদুর রহমান উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, পেট্রোবাংলার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরবরাহ না মেলায় কারখানাগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর আগে গণশুনানিতে পেট্রোবাংলা আশ্বাস দিয়েছিল যে, দাম বাড়ানো হলে অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সেখানে বলা হয়েছিল, বছরে ২০ লাখ টনের বেশি সার উৎপাদন করা গেলে আমদানির তুলনায় খরচ অনেক কম পড়বে। বর্তমানে আমদানিকৃত সারের কেজি প্রতি খরচ যেখানে প্রায় ৬১ টাকা, সেখানে দেশীয় উৎপাদনে তা মাত্র ৪৬ টাকা হতে পারত। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় দেশীয় উৎপাদন যেমন কমেছে, তেমনি বেড়েছে আমদানিনির্ভরতা।সারাদেশে বর্তমানে ঘোড়াশাল পলাশ, শাহজালাল, যমুনা ও চট্টগ্রামের মতো প্রধান সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের বিপুল চাহিদা রয়েছে। অথচ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত নগণ্য। উদাহরণস্বরূপ, আশুগঞ্জ সার কারখানাটি অত্যধিক গ্যাস খরচের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানের গ্যাস সংকট ও সরবরাহ বৈষম্য নিরসন না হলে দেশের কৃষি খাতে সারের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। যদিও পেট্রোবাংলা আশা ব্যক্ত করেছে যে, শীঘ্রই সরবরাহ বাড়ানো হবে, তবে মাঠপর্যায়ে এর সুফল নিয়ে সন্দিহান সংশ্লিষ্টরা। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তারা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার কারখানাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ