প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
||
তজুমদ্দিনে মতবিনিময় সভায় প্রশাসনের দুর্নীতি ও বিগত সরকারের দুঃশাসন নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন স্পিকার; দেশের স্বার্থ বিসর্জনের কড়া সমালোচনা।ভোলার তজুমদ্দিনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা দুর্নীতি ও বিগত সরকারের দুঃশাসন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তজুমদ্দিন উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের চারিত্রিক স্খলন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেন।বক্তব্যের শুরুতেই দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, ‘আমাদের দেশটা অদ্ভুত। এখানকার অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চুরিতে লিপ্ত। তাদের লাগামহীন ঘুষখোরি আর লুটপাটের ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।’ তিনি মনে করেন, এখনো প্রশাসনে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের অনুসারীরা সক্রিয় রয়েছে, যার কারণে সংস্কারের প্রকৃত সুফল সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।আওয়ামী লীগের শাসনামলকে লুণ্ঠনের কাল হিসেবে অভিহিত করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন এই দলটি দেশের কোষাগারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এমনকি বিদেশ থেকে আসা সাহায্য পর্যন্ত তারা পাচার করে দিয়েছে বিদেশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো জঘন্য ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফিলিপাইনে এই ঘটনার সাথে জড়িতরা বিচারের সম্মুখীন হয়ে কারাগারে থাকলেও বাংলাদেশে এর কোনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি।সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি ছাড়াও দুবাই ও আমেরিকায় বিলাসবহুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। স্পিকারের মতে, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা দেশসেবার নামে মূলত নিজেদের ভাগ্য গড়তেই ব্যস্ত ছিলেন।প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে হওয়া বিভিন্ন অসম চুক্তির বিষয়েও মুখ খোলেন তিনি। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশীয় জাহাজের চেয়ে বিদেশি জাহাজের অগ্রাধিকার এবং নামমাত্র শুল্কে পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন। সীমান্তে নিয়মিত নিরীহ বাংলাদেশি হত্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সীমান্তে কোনো গুলিবর্ষণ না হলেও বাংলাদেশের নিরীহ মানুষকে প্রতিদিন প্রাণ দিতে হচ্ছে।পরিশেষে, দেশের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান স্পিকার। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে একটি জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ