প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রামের নদীপথে রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে ‘সোনালি আঁশ’
||
দামের বড় পার্থক্যে প্রলুব্ধ হয়ে সীমান্ত পার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ পাট; প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে বেপরোয়া পাচারকারী চক্রবাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি ‘সোনালি আঁশ’ পাট এখন অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন নদীপথ ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে বিপুল পরিমাণ পাট পাচার হচ্ছে ভারতে। মূলত দেশের বাজারের তুলনায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাটের দাম বেশি হওয়ায় এক শ্রেণির অসাধু চক্র এই পাচারকাজে জড়িয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় কৃষকদের কাছ থেকে পাট সংগ্রহ করে তা স্তূপ করে রাখা হয় চরাঞ্চলে, আর রাত গভীর হলেই ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সেই পাট পৌঁছে দেওয়া হয় ওপারে।অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িগ্রামের জাহাজের আলগা, সাহেবের আলগা, নারায়ণপুর, যাত্রাপুর ও বেরুবাড়ীর মতো প্রায় ২০-২৫টি পয়েন্ট দিয়ে পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে। দিনের আলোয় চরাঞ্চলগুলোতে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চললেও রাত ২টার পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের বুক চিরে পাটবোঝাই নৌকাগুলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ধুবরি জেলার কাটামারি এলাকায় যায়। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি রাতে অন্তত ১০ থেকে ১২টি বড় নৌকা পাট নিয়ে ওপারে পাড়ি জমায়। হিসেব অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মণ পাট এভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে।পাচারের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দামের বিশাল ব্যবধান। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি মণ পাটের বাজারমূল্য যেখানে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা, ভারতে তা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায়। এই বাড়তি লাভের আশায় কৃষকরাও অনেক সময় সরাসরি পাচারকারীদের হাতে পাট তুলে দিচ্ছেন। ফলে স্থানীয় বড় বড় হাটগুলোতে পাটের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জেলার বৃহত্তম যাত্রাপুর হাটে যেখানে মৌসুমে দিনে চার-পাঁচ হাজার মণ পাট কেনাবেচা হতো, সেখানে এখন তা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই পাচার প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। ভারত চাইলে বৈধভাবে পাট আমদানি করতে পারে, কিন্তু শুল্ক ফাঁকি দিতে তারা এই চোরাপথ বেছে নিচ্ছে। এদিকে প্রশাসনের উদাসীনতা ও নজরদারির অভাবকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। যদিও বিজিবি দাবি করেছে তারা টহল জোরদার করেছে, তবে নৌ-পুলিশের অনুপস্থিতিতে পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে সোনালি আঁশের দেশি বাজার আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ