প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ দিনের মধ্যে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সরানোর নির্দেশ হাইকোর্টের
||
ইসলামবাগ ও সংলগ্ন এলাকার নদী দূষণ রোধে ১৩ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে আদালতের তলব; চার সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়ন প্রতিবেদনের নির্দেশ।ঢাকার প্রাণ হিসেবে পরিচিত বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন উচ্চ আদালত। রাজধানীর লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চরের ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে যত্রতত্র ফেলা প্লাস্টিকসহ সকল প্রকার বর্জ্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং পূর্ববর্তী নির্দেশনার তোয়াক্কা না করার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই রায় দেন। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করা হয়েছিল। মূলত দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ২০১০ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এক রায়ে দূষণ বন্ধে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও বর্তমানে ইসলামবাগে বুড়িগঙ্গার তীরে শত শত টন প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তিনি আদালতকে জানান যে, হাইকোর্ট বুড়িগঙ্গা দূষণ রোধে এর আগেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার সঠিক বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে ইসলামবাগ এলাকায় নদীর পাড় দখল করে স্তূপাকারে রাখা হয়েছে প্লাস্টিক বর্জ্য। এসব বর্জ্য কেবল তীরের মাটিই দূষিত করছে না, বরং বাতাসের সঙ্গে এবং বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে, যা পানি দূষণকে এক ভয়ংকর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটি আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের সরাসরি অবমাননা।আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আদালত নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ জন কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালতের এই নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়িত হলো, সে বিষয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে একটি বিস্তারিত হলফনামা বা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের আদেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বুড়িগঙ্গার এই দূষণ শুধু একটি নদীকে ধ্বংস করছে না, বরং সমগ্র রাজধানী ঢাকার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আইনজীবী মনজিল মোরশেদ আরও উল্লেখ করেন, যদি অবিলম্বে এই বর্জ্য অপসারণ না করা হয়, তবে তা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করবে। আদালতের এই আদেশের ফলে নদী তীরের দখলদার ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই জঞ্জাল সরিয়ে বুড়িগঙ্গা কত দ্রুত তার স্বাভাবিক রূপ ফিরে পায়।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ