প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইন্টারনেটে ২ কোটি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার তথ্য প্রকাশ করল ইউনিসেফ
||
বিশ্বের ২১টি দেশে পরিচালিত ইউনিসেফের নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমে বাড়ছে শিশুদের ঝুঁকি।প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার এই যুগে শৈশব এখন চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল স্ক্রিনে বন্দি। তবে এই ডিজিটাল বিপ্লব শিশুদের জন্য কতোটা নিরাপদ, তা নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের (UNICEF) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, গত এক বছরে বিশ্বের ২১টি দেশের প্রায় ২ কোটি শিশু ইন্টারনেটে কোনো না কোনোভাবে যৌন শোষণ বা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে অন্তত একজন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যৌন হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ইউনিসেফের এই পরিসংখ্যান কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ শিশুকে তাদের অনিচ্ছাসত্ত্বেও আপত্তিকর বা যৌনতাপূর্ণ বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৯০ লাখ শিশুকে প্ররোচিত করা হয়েছে যৌন সংলাপে লিপ্ত হতে কিংবা স্পর্শকাতর ছবি আদান-প্রদান করতে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অন্তত ৪০ লাখ শিশুর ব্যক্তিগত ছবি তাদের সম্মতি ছাড়াই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।ইউনিসেফের এই বৃহৎ গবেষণাটি ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ওপর পরিচালিত হয়েছে। এতে উঠে এসেছে যে, এ ধরনের নির্যাতনের প্রায় ৬০ শতাংশই সংঘটিত হয় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। এর মধ্যে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মেও প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এদিকে এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’ (Meta) তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। মেটার একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্যগুলো ২০২০ সাল পর্যন্ত পুরোনো। বর্তমান সময়ে তারা কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং অপরিচিতদের বার্তা আসা বন্ধ করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে ইউনিসেফ মনে করে, শিশুদের একটি বড় অংশই লোকলজ্জা বা আইনি জ্ঞানের অভাবে এসব নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে পারে না, ফলে প্রকৃত সংখ্যাটি কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল বিশ্ব গড়তে বৈশ্বিক পর্যায়ে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ