প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড: ৩ মাসে বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা
||
জুনের শেষে শ্রেণিকৃত ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড; পুনঃতফসিল সুবিধাতেও আটকে নেই খেলাপি ঋণের জয়যাত্রা।বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর খেলাপি ঋণের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন সময়ের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে যেখানে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, জুনের সমাপ্তিতে তা প্রথমবারের মতো ৬ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়। এই পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে, আলোচিত তিন মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা করে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকগুলো ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের মতো নানা ছাড় দেওয়ার পরেও পরিস্থিতির কোনো আশাব্যঞ্জক উন্নতি হচ্ছে না। বরং পুরনো খেলাপি ঋণ নতুন করে শ্রেণিকৃত হওয়ার পাশাপাশি আগের পুনঃতফসিল করা ঋণ আবারও খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। জুন শেষে মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশই এখন শ্রেণিকৃত ঋণ, যা গত মার্চে ছিল ৩২.২৬ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশীয় পয়েন্ট। এই বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। নিয়মানুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে একটি বড় অংশ প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এতে সরাসরি ব্যাংকের আয় ও মূলধন কাঠামোর ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়। একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ঋণ অনাদায়ী হয়ে পড়লে ব্যাংকের নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ব্যাহত হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য শুধু পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনই যথেষ্ট নয়। প্রকৃত ঋণখেলাপিদের চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে কঠোরভাবে অর্থ আদায় এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে এই আর্থিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। তিন মাসে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য একটি শক্তিশালী সতর্ক সংকেত। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ