প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে হামলার হুমকি
||
অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের তথ্য ফাঁস করায় সাংবাদিককে হামলা ও মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগ; থানায় সাধারণ ডায়েরি সম্পন্ন।নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সংবাদকর্মী চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি একটি রেস্তোরাঁর অনিয়ম ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম সিরাজকে প্রাণনাশের হুমকি ও মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম সিরাজ দৈনিক দি নিউ নেশনের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এই ঘটনায় তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পানাম ফুড পার্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক সিরাজ জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বেকারিতে সরকারি গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়ার পর তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদটি প্রকাশের ঠিক পরদিনই 'কলাপাতা বার্গার'-এর পরিচালক মামুন শিকদার তাকে মুঠোফোনে কল করে কৈফিয়ত দাবি করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং আইনি মারপ্যাঁচে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। সিরাজের দাবি, এই ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত আছে, যা তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। সাংবাদিক সিরাজ আরও বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে জনস্বার্থে তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রচার করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সত্য প্রকাশের কারণে যদি হামলা বা মামলার হুমকি দেওয়া হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় অন্তরায়। তিনি জানান, এর আগেও সংশ্লিষ্ট চক্রটি সাংবাদিকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই রেস্তোরাঁ ও সংলগ্ন কারখানাগুলোতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই অভিযোগের বিষয়ে মামুন শিকদার অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি বলে তিনি কেবল আইনি পদক্ষেপ বা আইসিটি আইনে মামলার কথা বলেছেন। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভুক্তভোগী সাংবাদিক স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নারায়ণগঞ্জের গণমাধ্যমকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। সোনারগাঁও থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানা গেছে। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ