প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশসহ ৭ দেশের আগ্রহ
||
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের ত্রিদেশীয় সামরিক জোটে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্র যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।বিশ্ব রাজনীতিতে মুসলিম দেশগুলোর একটি শক্তিশালী এবং সংহত অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে যাচ্ছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রাক্কালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে এখন পর্যন্ত আরও ছয় থেকে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্লুমবার্গের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য।গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সই হয়েছিল। এই চুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী দিকটি হলো এর প্রতিরক্ষা নীতি, যা অনেকটা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে তৈরি। অর্থাৎ, চুক্তিবদ্ধ তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে, তাকে জোটের সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সম্মিলিতভাবে তার মোকাবিলা করা হবে। এই 'সম্মিলিত প্রতিরক্ষা' ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যসহ এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সপ্তাহান্তে যুক্তরাজ্য সফরকালে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, বর্তমানে একটি বিশেষ কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজ চলছে, যা আগ্রহী দেশগুলোর জন্য এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাম এখনো প্রকাশ করেননি, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশ এই জোটে যোগদানের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছিলেন, মিশরের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকেও এই সামরিক ও কৌশলগত বলয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।বর্তমানে ইস্তাম্বুলে চলমান এই কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ছাড়াও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানগণ অংশ নিচ্ছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে উন্নত সমন্বয় সাধন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে একে অপরের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করা। এছাড়া চুক্তির স্থায়ী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী সচিবালয় গঠনের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা চলছে।আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম বিশ্বের এই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা শুধুমাত্র সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। বাংলাদেশ ও মিশরের মতো দেশগুলো এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হলে এটি কেবল একটি আঞ্চলিক জোট নয়, বরং একটি বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিশালী সংস্থায় পরিণত হবে। এই অগ্রযাত্রার ফলে বিশ্বের অন্যান্য সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যও পুনর্বিবেচনার মুখে পড়তে পারে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ