প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল অনুমোদন
||
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এক অনন্য খুশির বার্তা নিয়ে এলো নবম জাতীয় বেতন স্কেল। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। এর ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত লাখো সরকারি চাকরিজীবীর বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেলের এই নতুন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে। যদিও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও প্রজ্ঞাপন জারির কারণে কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে, তবে চাকরিজীবীরা তাদের বর্ধিত মূল বেতন জুলাই মাসের হিসাব অনুযায়ী বকেয়া বা এরিয়ার হিসেবে প্রাপ্য হবেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বর্ধিত অর্থ ধাপে ধাপে প্রদান করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারির আইনি প্রক্রিয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল। সেই সময়ে সর্বনিম্ন বেতন ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ছিল ৭৮ হাজার টাকা। দীর্ঘ এক দশকের ব্যবধানে বাজারমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে নতুন এই স্কেলে মূল বেতন গড়ে প্রায় ১০০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি এই কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছিল। সেই প্রতিবেদনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে বর্তমান মন্ত্রিসভা আজ এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের আকর্ষণ বাড়বে এবং প্রশাসনিক কাজে আরও গতিশীলতা আসবে বলে নীতি-নির্ধারকরা আশা প্রকাশ করেছেন। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ