প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
রূপগঞ্জে সিটি অটো রাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণ: দগ্ধ ২
||
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি অটো রাইস মিলে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন ওই কারখানায় ঘটা এ দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। আজ রোববার ভোরের দিকে উপজেলার তারাবো পৌরসভার অন্তর্গত রূপসী গন্ধর্বপুর তালতলা এলাকায় এই জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। আহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন তালতলা এলাকার হামিদ প্রধানের ছেলে মোজাম্মেল প্রধান (৪৫) এবং একই এলাকার আমির হোসেনের ছেলে সাব্বির আহমেদ (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিটি অটো রাইস মিলের কর্মচাঞ্চল্য যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই হঠাৎ করে বয়লারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে পুরো শিল্প এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কারখানার ভেতরে থাকা অন্য শ্রমিকরা জীবন বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সময় মোজাম্মেল ও সাব্বির বয়লারের একদম কাছাকাছি অবস্থানে কাজ করছিলেন, ফলে আগুনের হলকায় তাদের শরীর মুহূর্তেই ঝলসে যায়। বিস্ফোরণের পরপরই সহকর্মীরা সাহসিকতার সাথে এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দগ্ধ দুই শ্রমিককে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোজাম্মেলের স্ত্রী আমেনা বেগম অত্যন্ত শোকাতুর কণ্ঠে জানান, তার স্বামীর শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশই আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে তরুণ শ্রমিক সাব্বিরের অবস্থাও চিকিৎসকদের মতে বেশ উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ কিছু জানাতে পারেনি। তবে স্থানীয়দের ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বয়লারের যান্ত্রিক ত্রুটি, দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব কিংবা অতিরিক্ত বাষ্পীয় চাপের কারণে এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। কারখানার নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বড় শিল্প গ্রুপের কারখানা হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন ঝুঁকি তৈরি হলো, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর সংগ্রহে গণমাধ্যমকর্মীরা কারখানায় পৌঁছালে সিটি গ্রুপ কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতামূলক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। সাংবাদিকদের কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয় এবং কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। কর্তৃপক্ষের এমন লুকোচুরি ও নীরবতা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ