প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশে আর থাকবে না আয়নাঘর: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
||
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের জোরালো অঙ্গীকার করলেন রাষ্ট্রপতি।রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেছেন যে, নতুন বাংলাদেশে গুম বা গোপন বন্দিশালার কোনো স্থান নেই। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বিগত দেড় দশকের দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। কোনো মাকে তার সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে তার স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় আর চোখের পানি ফেলতে হবে না।’অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি অত্যন্ত মমতাজুড়ে বলেন, গুম হওয়া মানুষের স্বজনরা বছরের পর বছর যে বুকফাটা হাহাকার এবং প্রতীক্ষা নিয়ে বেঁচে আছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি বিশেষ করে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনের মতো অগণিত নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের দীর্ঘশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও ব্যারিস্টার আরমান ও সাবেক সেনাসদস্যদের দীর্ঘ অন্ধকার বন্দিজীবনের ভয়াবহতা তুলে ধরেন তিনি।গুমকে মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি কেবল একজনের অধিকার কেড়ে নেয় না, বরং একটি গোটা পরিবারের স্বপ্ন ও সামাজিক অস্তিত্বকে ধ্বংস করে দেয়। বিগত সরকারের আমলে ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে যেভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে ভিন্নমত স্তব্ধ করা হয়েছিল, তার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। তিনি বলেন, গুম ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের একটি প্রধান হাতিয়ার, যার প্রমাণ গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। কমিশনের চিহ্নিত করা ১৫৬৯টি গুমের ঘটনার বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শুরু হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।মঞ্চে উপস্থিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও গুমের শিকার হয়ে প্রবাসে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার কেবল অপরাধীদের শাস্তি দিয়েই ক্ষান্ত হবে না, বরং গুমের শিকার পরিবারগুলোর সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবে।ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক দেশ চাই যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। মানুষের বাকস্বাধীনতা থাকবে কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না।’ তিনি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পরিশেষে, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত করেন।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ