প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
সাগর-রুনি হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনালে মেঘ
||
দীর্ঘ এক যুগের বিচারহীনতার অবসান ঘটাতে এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ সাংবাদিক দম্পতির সন্তান ও পরিবার; তদন্ত প্রতিবেদন পেছানোর রেকর্ড ১২৯ বার।রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো অন্ধকারে। তবে সম্প্রতি এই মামলা এক নতুন মোড় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ‘একজন প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এবার ন্যায়বিচারের আশায় ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মাহির সারওয়ার মেঘ। রোববার বিকেলে মেঘের সঙ্গে ছিলেন মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলী রোমান।ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এই সাক্ষাতকালে তারা মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সম্ভাব্য দোষীদের বিষয়ে আলোচনা করেন। নওশের আলী রোমান সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি মামলার কার্যক্রম ট্রাইব্যুনালে পরিচালনার আবেদন জানান। চিফ প্রসিকিউটর তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনগত এখতিয়ার যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তারা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জড়িত থাকার সূত্র খুঁজে পেয়েছেন। যদিও তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে সেই ব্যক্তি বর্তমানে গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ রেকর্ডসংখ্যক ১২৯ বার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় র্যাব এই মামলার তদন্ত করলেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই-এর (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।সাক্ষাৎ শেষে নওশের আলী রোমান গণমাধ্যমকে জানান, বছরের পর বছর শুধু তারিখ পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু বিচার হয়নি। এবার তারা আশা করছেন, ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কোনো নতুন সত্য বেরিয়ে আসবে। দীর্ঘ এক যুগ ধরে বাবা-মায়ের হত্যার বিচারের আশায় পথ চেয়ে থাকা মেঘের উপস্থিতি সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। চিফ প্রসিকিউটর আরও স্পষ্ট করেন যে, এটি মূলত একটি ‘ইন্ডিভিজুয়াল মার্ডার কেস’, তাই আইনগত দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ