প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন
||
তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে লালমনিরহাটে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন; পর্যবেক্ষণ করলেন সেচ প্রকল্প ও তিস্তার গতিপ্রকৃতিতিস্তা নদীকে ঘিরে নতুন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোরালো আলোচনার মধ্যেই আকস্মিক ও তাৎপর্যপূর্ণ এক সফরে উত্তরবঙ্গ পৌঁছেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম দিনেই তিনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করেন। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর নাগাদ রাষ্ট্রদূত ব্যারেজ এলাকায় পৌঁছালে সেখানে এক বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পুরো ব্যারেজ এলাকা ও আশপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ব্যারেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি ব্যারেজের গেটসমূহ, নদীর বর্তমান পানির স্তর এবং নদীর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করেন। লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার কৃষি সমৃদ্ধিতে এই ব্যারেজের ভূমিকা এবং সেচ ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন। উত্তরবঙ্গের কৃষি ও জীবনযাত্রায় তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। বিশেষ করে যখন তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে নানা মহলে ভূ-রাজনৈতিক আলোচনা তুঙ্গে, তখন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সরেজমিন পরিদর্শনকে বিশেষ নজরে দেখছেন বিশ্লেষকরা।এর আগে রাষ্ট্রদূত রবিবার সকালে বিমানে করে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সড়কপথে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। তার এই সফর কেবল একটি অবকাঠামো পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি। সফরের পরবর্তী ধাপে তার পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন তিনি।তিস্তা ব্যারেজ কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি দেশের উত্তর জনপদের কয়েক লাখ কৃষকের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। দীর্ঘকাল ধরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও নদীর নাব্যতা সংকট ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দাবি দীর্ঘদিনের। রাষ্ট্রদূতের এই সফর ও পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মিত্র দেশগুলোর আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও গণ্য হচ্ছে। তিন দিনের এই ব্যস্ত সফর শেষে তিনি পুনরায় রাজধানীতে ফেরার কথা রয়েছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ