প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
বৃক্ষ 'হত্যা' জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ডেপুটি স্পিকারের
||
বৃক্ষ 'হত্যা' মেনে নেওয়া হবে না: জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ডেপুটি স্পিকারেরনেত্রকোনার কলমাকান্দায় সড়কের পাশের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনায় প্রশাসনের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি ব্যারিস্টার কায়সার কামালের; নতুন করে লাগানো হবে ১২০০ চারা।নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সড়কের পাশে অতি যত্ন করে রোপণ করা গাছের চারা ও সেগুলোর সুরক্ষাবেষ্টনী উপড়ে ফেলার ঘটনাকে কেবল অপরাধ নয়, বরং ‘হত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরিবেশবিরোধী এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজের পর উপজেলার বাবনি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তার এই ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার কথা ব্যক্ত করেন।উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট দিবাগত রাতের অন্ধকারে কলমাকান্দা উপজেলার বাবনি এলাকায় সড়কের পাশে রোপণ করা প্রায় ৩৫টি গাছের চারা এবং সেগুলোর চারপাশের সুরক্ষা খাঁচা উপড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি নজরে আসার পর ডেপুটি স্পিকার দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি উপড়ে ফেলা চারাগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘একটি গাছ শুধু একটি উদ্ভিদ নয়, এটি একটি প্রাণ। যারা এই গাছগুলোকে রাতের আঁধারে উপড়ে ফেলেছে, তারা মূলত জীবন্ত সত্তাকে হত্যা করেছে। এই ধরনের মানসিকতা কোনো সুস্থ মানুষের হতে পারে না। আমি বলব, এই গাছগুলোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘গাছগুলো উপড়ে ফেলার পর দুই দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করতে না পারাটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি মানুষকে পরম মমতায় অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। বহু শ্রম ও ত্যাগের পর একটি চারা যখন বড় হয়ে ওঠে, তখন সেটি পুরো সমাজের সম্পদে পরিণত হয়।তবে এই প্রতিকূলতায় দমে না গিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আরও জোরালো করার ঘোষণা দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি জানান, একই স্থানে আবারও নতুন করে বৃক্ষরোপণ শুরু করা হয়েছে এবং এবার আরও বড় পরিসরে প্রায় ১ হাজার ২০০টি গাছের চারা লাগানো হবে। চারাগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং বড় না হওয়া পর্যন্ত কড়া নজরদারির ব্যবস্থাও করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই গাছগুলো কেবল সরকারের সম্পদ নয়, এগুলো আপনার ও আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাই প্রত্যেকটি গাছ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি গাছ বাঁচানো মানে একটি জীবনকে বাঁচানো।’ তার এই সময়োচিত পদক্ষেপ ও কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ