প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
হিমালয়ে জলবায়ু বিপর্যয়: নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা
||
জলবায়ু পরিবর্তনের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি এখন হিমালয় অঞ্চল। প্রকৃতি ও ভূ-প্রকৃতির এই চরম ভারসাম্যহীনতায় নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। সাম্প্রতিক এক প্রলয়ংকরী হিমবাহ ধস ও তার পরবর্তী বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৫৯ জন। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জনই বিদেশি পর্যটক।ঘটনার সূত্রপাত হয় হিমালয়ের ‘লাংটাং লিরুং’ চূড়ার উত্তর ঢালে। সেখান থেকে একটি বিশাল হিমখণ্ড ধসে পড়ে তিব্বতের ‘লেন্দে খোলা’ নদীতে আছড়ে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ও কাদার তোড় মুহূর্তেই পাহাড়ি জনপদ ও উপত্যকাগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এই দুর্যোগের প্রভাব এতটাই সুদূরপ্রসারী ছিল যে, সীমান্ত সংলগ্ন অন্তত ছয়টি বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জিরং স্থলবন্দরের বাণিজ্য অবকাঠামো ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এমনকি ভারত সীমান্তের ১০০ কিলোমিটার ভাটি অঞ্চলেও নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।আর্থ সায়েন্সেস নিউজিল্যান্ডের ‘মাউন্টেনস টু সি’ কর্মসূচির প্রধান বিজ্ঞানী সাইমন কক্স এই বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে উঁচু পাহাড়ের পাথর ও বরফের যে প্রাকৃতিকভাবে টিকে থাকার ক্ষমতা, তা এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে ঢালের বাঁধন আলগা হচ্ছে, যা এই ধরনের আকস্মিক ধস ও বন্যার পথ প্রশস্ত করছে।পরিসংখ্যান বলছে, হিমালয় অঞ্চলে গত কয়েক দশকে বরফ গলার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, বিগত ৩০ বছরে নেপালের পাহাড়গুলো তাদের এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড)-এর মতে, আবহাওয়া ও ভূ-প্রকৃতির এই দ্রুত পরিবর্তন পুরো হিন্দুকুশ অঞ্চলের মানুষকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইসিমোডের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ফারুক আজম মনে করেন, অতিরিক্ত তুষার গলে যাওয়ার পাশাপাশি ভূকম্পনের প্রভাবও এই বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল তাপমাত্রা বৃদ্ধি নয়, বরং বরফ জমাট বাঁধা ও গলার অনিয়মিত চক্র এবং বৃষ্টির ধরন পরিবর্তন হওয়াও এই দুর্যোগের অন্যতম কারণ। হংকংয়ের সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বেঞ্জামিন হর্টন সতর্ক করে বলেছেন, যখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড়ের ঢালের সঙ্গে ভূকম্পনের মতো বিষয় যুক্ত হয়, তখন ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই ধরনের ধারাবাহিক ঝুঁকি মোকাবিলায় পাহাড়ি অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ