প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
জনদুর্ভোগের আরেক নাম কেওঢালা–বারদী বায়া অলিপুরা সড়ক, সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসীর ক্ষোভ
আলমগীর হোসেন ||
জনদুর্ভোগের যেন আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও বন্দর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের বহুল ব্যবহৃত কেওঢালা–বারদী বায়া অলিপুরা সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ও চরম দুর্ভোগ সহ্য করে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন।বিশেষ করে কাজহরদী তোফাজ্জল আব্দুর রহমানের বাড়ি থেকে কাজহরদী হাফেজিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। কোথাও তৈরি হয় কাদার স্তর, কোথাও আবার সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। ফলে রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচল যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাও হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যেন দেখার কেউ নেই। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রোগী, নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষকে প্রয়োজনের তাগিদে চলাচল করতে হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে সামান্য পথ পাড়ি দিতেও তাদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।দূর-দূরান্ত থেকে এই সড়ক দিয়ে আসা অনেক পথচারীর মুখেও শোনা যায় ক্ষোভ ও হতাশার কথা—“এই এলাকায় কি কোনো ভদ্রলোক বসবাস করেন না? মানুষের চলাচলের রাস্তা এমনও থাকতে পারে?”স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল আব্দুর রহমান জানান, মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এক গাড়ি ইট রাস্তায় ফেলেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই রাস্তাটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।তিনি আরও বলেন, সড়কটি মূলত সাধারণ মানুষের চলাচল এবং ছোট যানবাহন—বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বড় বড় পিকআপ ও ট্রাক চলাচল করছে। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে প্রতিদিন শত শত মাটিবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ এসব ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এলাকাবাসীর দাবি, শুধু রাস্তা সংস্কার করলেই হবে না; সংস্কারের পর যাতে আবার ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে সড়কটি নষ্ট হয়ে না যায়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে সড়কের নির্দিষ্ট অংশে বড় ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি রাস্তা শুধু ইট-পাথর ও মাটির সমষ্টি নয়—এটি মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। অথচ মাসের পর মাস এমন দুরবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।এ বিষয়ে অত্র নির্বাচনী এলাকার সাদীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী কামরুজ্জামান ভূইয়া মাসুম বলেন, “রাস্তাটির জন্য অনুদান বরাদ্দ হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তার কাজ শুরু হবে।”তার এমন বক্তব্যে কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। তবে তাদের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি যেন শুধু কথায় সীমাবদ্ধ না থাকে; দ্রুত বাস্তবে রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু করে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—আর কতদিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে? দ্রুত সংস্কার হোক কেওঢালা–বারদী বায়া অলিপুরা সড়ক, বন্ধ হোক অবাধ ভারী যান চলাচল, স্বস্তি ফিরে আসুক হাজারো মানুষের জীবনে।পরি-কন্ঠ/ মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ