প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
পীযূষ কুমার বিশ্বাস , বিশেষ প্রতিনিধি ||
মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬ জলবায়ু-প্রভাবিত জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে জলাভূমি পুনরুদ্ধারের কৃষি-প্রাণ প্রকৃতি
(Agro-ecological) ভিত্তিক উদ্যোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো রি-ওয়েট
(Re WET: Climate Impacted Dwellers-Led Agro-ecological Stewardship for Restoring
Wetlands) প্রকল্পের “অভিজ্ঞতা বিনিময় (Knowledge Exchange)” অনুষ্ঠান। রিভার এন্ড ডেল্টা রিসার্চ কনসালটেন্ট লিমিটেড
(RDRC) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ষষ্ঠ তলার মিনি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত
হয়। অনুষ্ঠানে গুলশান-বনানী লেকের পুনরুদ্ধার,
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কমিউনিটি নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, নগর কৃষি,
নেচার বেইসড সলুশন এবং স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা নিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ
সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি গুলশান-বনানী লেকের ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধার ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ,
সহযোগিতার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল
সৈয়দ রাকিবুল হাসান, পিএসসি, প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা উত্তর সিটি
কর্পোরেশন, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শফিকুল ইসলাম খান, মাননীয়
প্রশাসক, ঢাকা উত্তর সিটি
কর্পোরেশন। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইফাদুল
হক, কো-লিড(রি-ওয়েট) ও সহকারী অধ্যাপক-স্মিথ
কলেজ, যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেথ ডাউনি,
প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড ডেভলাপমেন্ট, (আইআইইডি)
যুক্তরাজ্য। আরও উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, (উপসচিব),
(অতিরিক্ত দায়িত্ব); মোহাম্মদ আবুল কাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, পরিবেশ,
জলবায়ু ও দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা সার্কেল, ঢাকা উত্তর সিটি
কর্পোরেশন; কমডোর
মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
কর্মকর্তা, ঢাকা
উত্তর সিটি কর্পোরেশন;
আবুল হাসনাত মোঃ আশরাফুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক
প্রকৌশলী, যান্ত্রিক সার্কেল,
ঢাকা উত্তর সিটি
কর্পোরেশন; মো:
ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং
প্রোজেক্ট ডিরেক্টর, ঢাকা ওয়াসা;
মোঃ আমিনুর রসুল, ট্রেজারার, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরডিআরসি);
রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি; রি-ওয়েট প্রকল্পের প্রধান অংশীদারগণ আবাদ থেকে ছিলেন নগর আবাদমেন্টর মোঃ শাহেদুজ্জামান শ্যামল,
হাওয়া খানম ও সুলতানা রায়হান এবং নগর আবাদ কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম; কাজী আকিফ,
সাবেক প্রজেক্ট ম্যানেজার (রি-ওয়েট) এবং আরোও অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আসিফ মইনুর চৌধুরী,
প্রজেক্ট ম্যানেজার (রি-ওয়েট)। মূল
প্রবন্ধ উপস্থাপন কালে ইফাদুল হক, কো-লিড (রি-ওয়েট) ও সহকারী অধ্যাপক, স্মিথ
কলেজ, যুক্তরাষ্ট্র, বলেন যেরি-ওয়েট মূলত একটি এভিডেন্স-বেসড আরবান ওয়েটল্যান্ড
রেস্টোরেশন মডেল, যার মাধ্যমে শহুরে
জলাভূমির পরিবেশগত, সামাজিক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক
সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে। তিনি শহুরে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য
সংরক্ষণ, ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, রি-ওয়েটের
আওতায় প্রথমে গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সেই তথ্যের
ভিত্তিতে বাস্তব কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ডেমোনস্ট্রেশন
গ্রাউন্ড বা “ঘের”-এর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে
প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ একটি সেমি-সার্কুলার বাঁশের কাঠামো তৈরি করে ২৩ ধরনের টুলকিট
পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মাছ চাষের পাশাপাশি জলাভূমি-উপযোগী ভেজিটেশন ও
ফ্লোটিং গার্ডেন স্থাপনের মাধ্যমে সেখানে নতুন ইকোলজিক্যাল হ্যাবিট্যাট তৈরি করা
হচ্ছে। মূল প্রবন্ধে আরও উঠে আসে যে, এসব কার্যক্রমের ফলে মাছের পাশাপাশি পাখি, বিভিন্ন
কীটপতঙ্গ, সরীসৃপসহ অন্যান্য প্রাণীর উপস্থিতি বৃদ্ধি
পাচ্ছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারের
সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে পরিবেশগত উন্নয়নের সঙ্গে কমিউনিটির জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার
বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছ। আরডিআরসি-র (RDRC) ট্রেজারার মোহাম্মদ আমিনুর রসুল বলেন,
রিওয়েট প্রকল্পের মাধ্যমে গুলশান-বনানীতে আবারও প্রাণ-প্রকৃতি ফিরে এসেছে।এর ফলে জলাশয়টির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন,
ডিএনসিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা যদি এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর ভাবে গাইড করেন এবং প্রকল্পটির মালিকানা গ্রহণ করেন,
তাহলে রিওয়েট মডেলকে শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।