প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
তারেক রহমানের নামে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে ছড়ানো বক্তব্যটি কি সত্য?
||
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাতে প্রচারিত বক্তব্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে একটি স্পর্শকাতর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ফটোকার্ডে দাবি করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— “আমার এখানে বিদ্যুৎ আছে। গ্যাসও আছে। যারা বলছেন, এই নাই, সেই নাই— তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর। আমি সজাগ আছি। আপনাকেও সজাগ থাকতে হবে।” এমন মন্তব্য নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।ফ্যাক্টচেক ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমের নিবিড় বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ধরনের কোনো বক্তব্য কোথাও প্রদান করেননি। মূলত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে এই ডিজিটাল কার্ডটি প্রচার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাপ্তরিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা মূলধারার কোনো গণমাধ্যমেই এই মন্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশের সরকারপ্রধান এ ধরনের কোনো মন্তব্য করলে তা অবশ্যই গণমাধ্যমে শিরোনাম হতো।বিপরীতমুখী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং বাস্তবসম্মত অবস্থান গ্রহণ করেছেন। গত ৪ আগস্ট একটি আলোচনা সভায় তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট বিদ্যমান। তিনি জনগণের দুর্ভোগের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, “অজুহাতের মাধ্যমে আমরা আমাদের দায়িত্ব এড়াতে চাই না। সমস্যা আছে আমরা জানি এবং সেই সমস্যা সমাধানের জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছি।”একইভাবে ৮ আগস্ট জাতীয় সংসদে এবং ৯ আগস্ট চট্টগ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিগত সরকারের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণেই বর্তমান জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমদানিকৃত এলএনজি খালাসে কারিগরি জটিলতার কারণে সৃষ্ট গ্যাস সংকট দ্রুতই সমাধান হওয়ার বিষয়েও তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সংকট স্বীকার করে তা সমাধানের রোডম্যাপ দিচ্ছেন, সেখানে তার নামে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভুয়া মন্তব্য প্রচার করা সুদূরপ্রসারী কোনো রাজনৈতিক অপপ্রচারের অংশ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই অপকৌশল অবলম্বন করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।পরি-কন্ঠ/মুয়াজতথ্যসূত্রRumor Scanner’s analysisEkhon Tv – বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— ‘অজুহাতে দায়িত্ব এড়াতে চাই না’Prothom Alo – জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রীDaily Star – Gas crisis to be resolved within 5-7 days: PM Tarique
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ