প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল
||
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে দলীয় পদ ত্যাগ করলেন মির্জা ফখরুল; প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে রুহুল কবির রিজভীর বড় ঘোষণা।বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সংকেত দিয়ে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এই উচ্চ পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠক শেষে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাষ্ট্রপতি পদের গুরুত্ব এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতিমধ্যেই দলের মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সংসদীয় হুইপ এবং শীর্ষস্থানীয় যুগ্ম মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাঝপথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমাদের দলের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের চেয়ারপারসন এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি পদে লড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরপরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিচয় ও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যাতে রাষ্ট্রীয় এই সর্বোচ্চ পদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের মতো একজন অভিজ্ঞ ও সজ্জন রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করার বিষয়টি দেশের আগামী রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। একদিকে মহাসচিব হিসেবে তাকে হারানোর শূন্যতা, অন্যদিকে দেশের অভিভাবক হিসেবে তাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে বিএনপির অন্দরে এখন নতুন এক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মহাসচিব পদের মতো বিশাল দায়িত্ব ত্যাগ করে ফখরুলের এই সাহসী পদক্ষেপকে অনেকেই ত্যাগী রাজনীতির দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।রিজভী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে তার এই নতুন যাত্রার কথা জানিয়েছেন এবং সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও এই মনোনয়নকে স্বাগত জানিয়েছেন। বর্তমানে সচিবালয়ে বৈঠকটি চলমান রয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর দলের শূন্য হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন কারা স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন মির্জা ফখরুল।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ