প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
সুন্দরবন রক্ষায় মোংলায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন কর্মসূচি
||
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় শক্তিশালী করতে বাদাবন সংঘের এই বিশেষ কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।জলবায়ু পরিবর্তনের করাল গ্রাস থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করতে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন করে বনায়নের এক মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বাঁশতলা গ্রাম সংলগ্ন চরাঞ্চলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘বাদাবন সংঘ’-এর উদ্যোগে এই বিশেষ ম্যানগ্রোভ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই বনায়নের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সুন্দরবনকে প্রকৃতির রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করে মোংলার পশুর নদীতীরবর্তী প্লাবন ভূমিতে কয়েকশ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাদাবন সংঘের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর পপি আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূর আলম শেখ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সুন্দরবন আমাদের মায়ের মতো আগলে রাখে। জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙন রোধে ম্যানগ্রোভ বনের কোনো বিকল্প নেই। এই বন রক্ষা করতে হলে স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুন্দরবনের জিউধরা স্টেশনের কর্মকর্তা শেখ শাহাদাত হোসেন বলেন, উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে বনায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি সুন্দরবন সংরক্ষণে বনবিভাগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। বাদাবন সংঘের প্রতিনিধিরা জানান, যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO)-এর সহায়তায় এবং ওশান কমিউনিটি ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত 'ম্যানগ্রোভ রিস্টোরেশন' প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। মূলত স্থানীয় নারীদের পরিবেশ সচেতন করে তোলা এবং তাদের মাধ্যমে চারা রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে বনায়নের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয় যাতে তারা বনের উপকারিতা ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে পারেন। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে উপকূলীয় এলাকায় শুধু সবুজায়নই হবে না, বরং জলবায়ু সহনশীল একটি কমিউনিটি গড়ে উঠবে। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ