প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
||
ইসলামী ব্যাংকে ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার ও এস আলম গ্রুপের সাথে যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যেইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম আসার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজ পদের প্রভাব খাটিয়ে বিশাল অঙ্কের এই অর্থ সরিয়ে নেন। এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সাবেক রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলমসহ আরও ৩৮ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে।গত ২৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ক্ষমতাপ্রাপ্ত সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী দুদকের পরিচালক বরাবর এই অভিযোগ দাখিল করেন। যদিও অভিযোগটি দাখিলের কয়েকদিন পর সোমবার গণমাধ্যমের নজরে আসে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে ব্যাংকটির বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অর্থ পাচার ও আত্মসাৎ করেছেন।তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল ভিত্তির প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এই ঋণ জালিয়াতি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক ঋণসীমা ছিল মাত্র ১০০ কোটি টাকা। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সেই সীমা রাতারাতি বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের নেপথ্যে ছিলেন মোহাম্মদ ইউনুস ওরফে ইউনুস বাদল, যিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।দুদক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কমিশনে কোনো চেয়ারম্যান বা সদস্য না থাকায় এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক কোনো আইনি পদক্ষেপ বা অনুসন্ধান শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন কমিশন গঠনের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার জন্য পেশ করা হবে এবং তথ্যের গভীরতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত সংগৃহীত প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই কমিশন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের গ্রাহক, কর্মকর্তা এমনকি পরিচালকের ছদ্মবেশ ধারণ করে অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেছেন। তারা পরিচালনা পর্ষদ এবং ইনভেস্টমেন্ট কমিটির সদস্য হওয়ার সুবাদে ঋণ মঞ্জুর প্রক্রিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। মূলত এই প্রভাবশালী চক্রটি ব্যাংকটিকে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।তালিকায় থাকা অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এস আলমের পুত্র আহসানুল আলম, সুপ্রভ কম্পোজিটের চেয়ারম্যান এ বি এম শামসুল হাসান এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল মওলা। দেশের আর্থিক খাতে একের পর এক এমন বড় দুর্নীতির খবর জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ