প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাজেট বৃদ্ধি ও স্বতন্ত্র কাঠামো চাই, দাবি নগর দরিদ্রদের
পীযূষ কুমার বিশ্বাস , বিশেষ প্রতিনিধি ||
নগর এলাকায় বসবাসরত অতি দরিদ্র মানুষের জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা
নিশ্চিত করতে বাজেট বৃদ্ধি ও স্বতন্ত্র কাঠামো গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছে
নগর দরিদ্রদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ
সম্মেলনে এই দাবি তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কোয়ালিশন ফর দ্যা
আরবান পুওর-কাপ। সহযোগিতায় ছিল নগর দরিদ্র বস্তিবাসীদের ফেডারেশন-বিএফএসি
এবং পথবাসী, কুড়িবাসী ও পথবাসীদের ফেডারেশন-শেফ হেলথ গ্রুপ নেটওয়ার্ক। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলা হয়, মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার
অন্যতম শর্তই হলো স্বাস্থ্যসেবা। দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছর পার হলেও এখনো
পর্যন্ত মূল মন্ত্রণালয়ের অধীনে নগর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়িত
হয়নি। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ক) অনুযায়ী জনগণের
চিকিৎসা দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক
স্বাস্থ্যসেবার কিছু কাঠামো থাকলেও নগর এলাকায় সরকারের তেমন কোনো কাঠামো
নেই। বড় বড় হাসপাতালের আউটডোর বা ডিসপেনসারিতে যে সেবা দেওয়া হয় তা
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। ১৯৯০ সাল থেকে দাবি, এখনো সমাধান হয়নি: বক্তারা জানান, ১৯০ সাল থেকে নগর
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দাবিতে কাপসহ বিভিন্ন এনজিও, সিভিল প্রতিনিধি সরকারের
নীতিনির্ধারক পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি করে আসছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একসময়
জানিয়েছিল জটিলতার কারণে তারা নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি
বাস্তবায়ন করতে পারবে না। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এনজিওদের সঙ্গে
চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি চালায়। ইউএনএফপিএ’র সহযোগিতায় এতে
মাতৃস্বাস্থ্যসেবাও যুক্ত হয়। বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৩৩১টি পৌরসভা থাকলেও প্রকল্পের
আওতায় মাত্র ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা
দেওয়া হচ্ছে। ৪৫টি অংশীদারিত্ব এলাকায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন ও ১৬৭টি নগর
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯২ জনবল দিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি
মানুষকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাজেট ও জনবল বাড়ানোর দাবি: সম্মেলনে আইসিডিডিআরবি’র সাবেক প্রধান
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা
নিশ্চিত করতে হলে সবার জন্য প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে
হবে। তিনি বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৬৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা
বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা জিডিপির ১.১ শতাংশ। গত অর্থবছরে এটি ছিল ০.৮ শতাংশ।
শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, কার্যকর স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ করতে হবে। জনগণের স্বাস্থ্য আন্দোলন বাংলাদেশের সমন্বয়কারী আমিনুর রসুল বলেন,
হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেখানে নগর
স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করে দেওয়া মানে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে
দেওয়া। সংবাদ সম্মেলন থেকে নগর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও
বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের দাবিতে ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হোসনে আরা বেগম রাফেলা। উপস্থিত ছিলেন কাপ-এর
নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার রেবেকা সান ইয়াত। আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা
রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বাংলাদেশ হেলথ
রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক
ফোরামের খায়রুজ্জামান কামাল। আয়োজকরা বলেন, নগরবাসীর জীবন-জীবিকা এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম
অবলম্বন স্বাস্থ্যসেবা। তাই দ্রুত এই খাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ
প্রয়োজন।
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ