প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর: প্রাপ্তির হিসেবে কতটা
||
ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে প্রথম গণতান্ত্রিক সরকারের বর্ষপূর্তি ও জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণে দেশজুড়ে উৎসবমুখর কর্মসূচিঐতিহাসিক ৫ অগাস্ট। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আজ সেই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। আওয়ামী লীগের সাড়ে পনেরো বছরের শাসনাবসানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গত দুই বছরে এসেছে আমূল পরিবর্তন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সফল সংস্কার প্রক্রিয়া শেষে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান এবং প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াতে ইসলামী।গত দুই বছরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বড় ধরণের সংস্কারের ছোঁয়া লেগেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের মতে, জুলাই অভ্যুত্থান দেশবাসীকে কর্তৃত্ববাদ থেকে মুক্তি দিলেও পূর্ণ গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে আরও সময়ের প্রয়োজন। জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া এবং গুম-খুনের অপসংস্কৃতি বন্ধ হওয়াকে এই সময়ের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে যে ‘বৈষম্যহীন’ বাংলাদেশের দাবিতে তরুণরা রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিল, সেই লক্ষ্য পূরণে বিশেষ করে যুবকদের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারকে আরও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। ১৩৩টি সংস্কার অধ্যাদেশের মধ্যে অধিকাংশ কার্যকর হওয়ার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের জং ধরা কাঠামোতে গতি ফিরেছে। এদিকে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও এগিয়েছে দ্রুত গতিতে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। দিল্লিতে নির্বাসিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার দাবি এখন জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে।দিবসটি উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। দিনটি স্মরণে রাজধানীসহ সারাদেশে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবারগুলোকে সংবর্ধনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার শাহবাগে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার কতোটা সফল হবে, তা ভবিষ্যতেই প্রমাণিত হবে। তবে গত দুই বছরে অর্জিত জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রশাসন।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ