প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীরা স্বাধীনতাবিরোধীদের সৃষ্টি: পানিসম্পদমন্ত্রী
||
জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাজনীতিতে বিভেদ তৈরির অভিযোগ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির; এনসিপি নেতার শিষ্টাচার নিয়ে কঠোর সমালোচনা।লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো শিষ্টাচারবহির্ভূত নেতৃত্বের জন্ম দিচ্ছে। মন্ত্রীর মতে, এই অপশক্তি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম বেয়াদবি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।মঙ্গলবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের এন আহম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘জুলাই সমাবেশ’-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ্যানি বলেন, বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে বিরোধী শক্তির মুখোশধারী কেবল একটিই পক্ষ রয়েছে, আর তা হলো জামায়াত-শিবির। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি এনসিপি নামক যে নতুন ছাত্রসংগঠন ও রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়েছে, তারা মূলত জামায়াত-শিবিরের নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ফাটল ধরানো।বক্তব্যে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া এই দল একটি উদারপন্থী ও গণতান্ত্রিক দল। এই দলের নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও সুশৃঙ্খল নিয়ম রয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এখন অত্যন্ত সুসংগঠিত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে অশালীন ভাষা ও রুচিহীন আচরণের কোনো স্থান নেই। যারা তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করছে, তারা আসলে রাজনীতি বোঝে না। বিএনপি কোনো ধরনের বেয়াদবিকে প্রশ্রয় দেয় না এবং অতীতেও উশৃঙ্খলতার দায়ে অনেককেই বহিষ্কার করা হয়েছে।৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা গত ১৭ বছর রাজপথে ছিল না, তারা আজ ‘জুলাই যোদ্ধা’ সেজে বড় বড় কথা বলছে। অথচ ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই যখন লক্ষ্মীপুরে কৃষকদল নেতা সজীবকে হত্যা করা হয়েছিল, তখন এই তথাকথিত নেতারা কোথায় ছিলেন? তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এই ‘রাজাকারদের’ উত্তরসূরিরা কোথায় লুকিয়ে ছিল? তারা কেবল আন্দোলনের সফলতার পর দৃশ্যপটে এসে দেশকে ও রাজনীতিকে বিভক্ত করার পাঁয়তারা করছে।সমাবেশে জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরীসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। বক্তারা সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ