প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা
||
আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বা সংবাদ প্রকাশকে বিচারিক আদেশের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো গণমাধ্যম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কিংবা তার প্রচারণার সংবাদ আগাম ঘোষণা দিয়ে প্রকাশ করে, তবে তা আদালতের রায়ের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনাকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।উপদেষ্টা জানান, এর আগেও গণমাধ্যমগুলোকে এ বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেউ যদি আদালতের আদেশ অমান্য করে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করে, তবে সেটি সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আদালতের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন। জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং সেই লক্ষ্যে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।ব্যক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে হয়তো শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে সরকার বাধা দিত না। তবে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানানো প্রত্যেকের দায়িত্ব। তিনি আরও যোগ করেন, যদি কেউ মনে করেন আদালতের এই সিদ্ধান্তটি সঠিক নয়, তবে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমেই তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই।সংবাদ সম্মেলনে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন সংক্রান্ত তথ্যের বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কেন তথ্য আদান-প্রদানে এমন শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো পূর্ববর্তী সরকারের প্রভাব থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যারা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন, তাদের সবাইকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, প্রশাসনিক দক্ষতা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের সেবা প্রদান ব্যবস্থা সচল রেখেই সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করছে। যোগ্য জনবল গড়ে তোলা এবং কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশাসনকে জনবান্ধব করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।পরিশেষে তিনি বলেন, সরকার কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে রাষ্ট্রের সেবা ব্যবস্থাকে অচল করতে চায় না। ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা হচ্ছে যাতে দেশের মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা লাভ করতে পারে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ