প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সংসদীয় ককাস গঠনের উদ্যোগ
||
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার রক্ষা ও বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান।জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংকট নিরসনে বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত 'সংসদীয় ককাস' গঠনের প্রস্তাবনা উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) একটি প্রতিনিধি দল। রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. তাসনীম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠকে মিলিত হন।সাক্ষাৎকারকালে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের নৈতিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, "আমরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে সংসদে এসেছি। দেশ ও দশের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা পালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সংকট লাঘবে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন। এই গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমাদের টেকসই সমাধানের পথে হাঁটতে হবে।"বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বৈশ্বিক জলবায়ু প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের করণীয়। এ সময় উভয় পক্ষই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে একটি শক্তিশালী 'সংসদীয় ককাস' গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই ককাস গঠিত হলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন বা কপ (COP) সম্মেলনে বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দাবি ও অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে তারা একমত পোষণ করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার দেশের অভ্যন্তরীণ মাইগ্রেশন বা বাস্তুচ্যুতির সামাজিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ক্রমাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের শুধু সম্পদই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং ধীরে ধীরে তাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনকেও নড়বড়ে করে দিচ্ছে। ফলে জীবিকার সন্ধানে মানুষ যখন ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমায়, তখন তারা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে।উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত রামরু বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও থিংক ট্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল ধরে অভিবাসন, শরণার্থী সমস্যা এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজ করে আসছে। দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় নীতি প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করা রামরুর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এদিনের বৈঠকে সংসদীয় সক্রিয়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ