প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
ঘরোয়া ফুটবলে গভীর সংকট: কিংস ও আবাহনীর ফিফা নিষেধাজ্ঞা
||
ফিফার নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত শীর্ষ দুই ক্লাবের ভবিষ্যৎ; প্রিমিয়ার লিগের জৌলুস রক্ষায় বাফুফের জরুরি পদক্ষেপ।বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের আকাশে এখন ঘন কালো মেঘের ছায়া। ফিফার কঠোর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে দেশের দুই প্রধান ফুটবল পরাশক্তি—বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। দলবদলের ডামাডোল বাজলেও, এই দুই শীর্ষ ক্লাবের নীরবতা দেশের ফুটবল প্রেমীদের মনে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ক্লাবের এই ডামাডোল পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়রাও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ঠিকানা বদলাতে শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে আসন্ন ফুটবল মৌসুমকে ঘিরে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশের ঘরোয়া শীর্ষ লিগ আয়োজনে অন্তত ১০টি ক্লাব থাকা বাধ্যতামূলক। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন আবাহনী যদি শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে ফিরতে না পারে, তবে পুরো লিগ কাঠামোর বৈধতা নিয়ে সংকট তৈরি হবে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) গত রোববার এক জরুরি নির্বাহী সভা আহ্বান করে। সভায় গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হওয়া আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবকে লিগে টিকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবকেও প্রিমিয়ার লিগে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যদি কিংস ও আবাহনী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারে, তবে আগামী মৌসুমে ১৩টি দল নিয়ে লিগ মাঠে গড়াবে। আর যদি তারা ব্যর্থ হয়, তবে ১১টি দল নিয়ে লিগ আয়োজন করবে বাফুফে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সেরা দুই দল ছাড়া লিগ আয়োজিত হলে তা যেমন আকর্ষণ হারাবে, তেমনি এর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মান নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। ফিফার এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইতোমধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্লাব দুটি; যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে অংশ নিতে পারছে না। তাদের পরিবর্তে তৃতীয় স্থানে থাকা ফর্টিস ফুটবল ক্লাব এই আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ফুটবলারদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও ফিফার আর্থিক বিধিনিষেধ। বসুন্ধরা কিংস বর্তমানে ফিফার ১১টি নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে। অন্যদিকে, আবাহনীর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুটি নিষ্পত্তি হলেও একটির সমাধান এখনো ঝুলে আছে। ক্লাব লাইসেন্সিং বা এফআইবি প্রক্রিয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকায় ক্লাবগুলো এখন সময়ের সাথে যুদ্ধ করছে। আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু এবং বসুন্ধরা কিংসের কর্মকর্তা বায়েজিদ জোবায়ের আলম নিপু উভয়েই অবশ্য আশাবাদী যে, জরিমানা পরিশোধ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারবেন।আগামী ১৩ আগস্ট খেলোয়াড় নিবন্ধনের সময় শেষ হতে যাচ্ছে এবং ২১ আগস্ট থেকে নতুন মৌসুম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের। ফুটবলপ্রেমীরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন, শেষ মুহূর্তে এই সংকট কাটিয়ে কিংস ও আবাহনী কি পারবে তাদের পুরোনো ঐতিহ্য আর জৌলুস নিয়ে মাঠে ফিরতে? নাকি ঘরোয়া ফুটবল প্রবেশ করবে এক দীর্ঘমেয়াদি অন্ধকারে?পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ