প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
ভারত থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য বন্ধে কড়া বার্তা দিলো বাংলাদেশ
||
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের স্পষ্ট বার্তা; দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষায় দিল্লির সহযোগিতার প্রত্যাশা।বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা রোধ এবং বন্ধুপ্রতিম দুই রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক অটুট রাখতে ভারতের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য বা উস্কানিমূলক কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সরকারের কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। সোমবার বিকেলে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বহুমুখী দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনার অবস্থান এবং সেখান থেকে তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাউর হওয়া একটি খবর এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল—যেখানে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা কোনো জনসমক্ষে বক্তব্য দিতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দেন যে, পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া হলে তা দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্কের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার কোনো প্রচেষ্টা যদি প্রতিবেশী দেশ থেকে পরিচালিত হয়, তবে তা সাধারণ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেবে। তাই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে এবং দ্বিপক্ষীয় অগ্রগতির স্বার্থে ভারতকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ছড়ানো বা অরাজকতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দিলে তা দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপক্ষীয় সদিচ্ছাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। তিনি এ বিষয়ে যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া এবং দিল্লিকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় সচেষ্ট থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া বৈঠকে উভয় পক্ষ এই মর্মে একমত পোষণ করে যে, নিয়মিত সংলাপ এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর একটি টেকসই সমাধান সম্ভব। উভয় প্রতিনিধিই পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পথচলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের সাথে সম্পর্কের এই নয়া মোড় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে দিল্লির অবস্থান কী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের কূটনৈতিক সমীকরণ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ভারতীয় হাইকমিশনারের এই বৈঠকটি মূলত এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়ানোর আগাম সতর্কতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ