প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
বিএনপি ও জুলাই পরবর্তী বিভাজন নিয়ে নাহিদের মন্তব্য
||
রাষ্ট্রীয় সংস্কারে স্থবিরতা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্বহীনতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ এনসিপি আহ্বায়কেরজুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিভাজনের সুর বাজছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপিই প্রধানত এই অনৈক্য ও বিভাজন সৃষ্টি করেছে।রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘পাহাড়ে জুলাই– সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্রীয়মতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে যারা ক্ষমতার মসনদে আছেন, তাদের কারণেই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় ঐক্য সংকটের মুখে পড়েছে। ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো উপেক্ষিত হতে শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে যে সংস্কারের অঙ্গীকার দেওয়া হয়েছিল, এখন তার লেশমাত্র দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের জন্য তিনি বর্তমান সরকার ও প্রভাবশালী দলগুলোর জবাবদিহিহীনতাকে দায়ী করেন। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি। নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি ছাড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় চালানো হচ্ছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও সরকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা ভাবছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। তিনি মনে করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকে জোরালো আওয়াজ আসা জরুরি। একই দিনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান মিলনায়তনে আয়োজিত অন্য এক সভায় তিনি হুশিয়ারি দেন যে, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত না হলে এবং জুলাই সনদের লক্ষ্য পূরণ না হলে দেশে পুনরায় স্বৈরাচারী শাসন ফিরে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যে পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছিল, তা রাজনৈতিক আপসের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে। নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি নিয়োগ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সমালোচনা করেন এবং সব ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের জোর দাবি জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এই আলোচনা সভায় এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যারা আগামীর বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের শপথ ব্যক্ত করেন। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ