প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
||
বিএসএস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সংসদের গুরুত্ব ও সদস্যদের ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।জাতীয় সংসদের বর্তমান রূপরেখা ও সদস্যদের অতীত সংগ্রামের এক অনন্য চিত্র তুলে ধরেছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই সংসদের অধিকাংশ সদস্যই অতীতে চরম জুলুম ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক পথ অতিক্রম করেছেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনো সময় গুম, আয়নাঘরে বন্দি থাকা, অমানুষিক নির্যাতন কিংবা কারাবরণের মতো দুঃসহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। এমনকি অনেককে নির্বাসন কিংবা ফাঁসির মঞ্চের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে লড়াই করতে হয়েছে। বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ধরনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংসদ অত্যন্ত বিরল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।ভারপ্রাপ্ত স্পিকার দেশের সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান সংসদ ১৮ কোটি মানুষের শেষ ভরসাস্থল। জনগণ চায় তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদের ভেতরে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, যুক্তিনির্ভর তর্ক এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে দেশের সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক বা শ্রমিকও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংসদের প্রতিদিনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে সংসদ সদস্যদের প্রতিটি কথা ও কাজ এখন সরাসরি জনগণের নজরদারিতে রয়েছে। তাই জনগণের আস্থার মর্যাদা রাখা এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা প্রতিটি সদস্যের নৈতিক দায়িত্ব।সংসদ পরিচালনার মূলনীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যতদিন তিনি এই পবিত্র আসনে সমাসীন থাকবেন, ততদিন দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করবেন। তার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল সমান গুরুত্ব পাবে। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গ—আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ—পরস্পরের পরিপূরক। সংসদ হলো আইন প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দু, নির্বাহী বিভাগ তা বাস্তবায়ন করে এবং বিচার বিভাগ সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ ও সীমা পর্যালোচনা করে। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রাণকেন্দ্র হতে হবে জাতীয় সংসদকেই।গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সসহ ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার সংসদের উদাহরণ টেনে বলেন, সুস্থ গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমত ও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে এ দেশের গণতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন। ১৯৭৯ সালের সংসদকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংসদ হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে সংসদীয় রাজনীতির প্রকৃত বিকাশ ঘটেছিল। পরিশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার মূল স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ