প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
কারিগরি শিক্ষায় বিপ্লব ঘটাতে চায় সরকার
||
বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ সম্পদে রূপান্তরে ৪টি নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ওপর জোর দিলেন এহছানুল হক মিলন।দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক বোঝায় পরিণত না করে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, আধুনিক ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। শনিবার রাজধানীর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এক আবেগঘন স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে দক্ষ করে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা প্রণয়ন করছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। প্রথাগত পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দেশজুড়ে আরও চারটি নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা কারিগরি শিক্ষার সুযোগকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেবে।আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে উন্নত বিশ্বের সহযোগিতা পাবে, যা দেশের শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এহছানুল হক মিলন বিশ্বাস করেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণই পারে বেকারত্ব দূর করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি ও ত্যাগের মহিমা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। যারা দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্বপ্ন পূরণে আমাদের একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে। সেই স্বপ্নের মূলে থাকবে শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ সমাজ। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের দীর্ঘদিনের পরিবহন সঙ্কট নিরসনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত জোরালো প্রস্তাবনা পেশ করবেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ‘মায়ের ডাক’-এর প্রধান সমন্বয়ক সানজিদা তুলি বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। তিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের অভূতপূর্ব ঐক্যের কথা স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরাও তাদের বেদনাবিধুর স্মৃতিকথা তুলে ধরেন, যা উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ