প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ ভ্রমণে মার্কিন সতর্কবার্তা শিথিল
||
ভ্রমণ ঝুঁকি তৃতীয় মাত্রা থেকে নামিয়ে দ্বিতীয় স্তরে আনল যুক্তরাষ্ট্র; ছয় মাসের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান অগ্রগতির ফসল এই পরিবর্তন।বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের আস্থা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এর মাধ্যমে মার্কিন পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশে যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগে বাংলাদেশকে ভ্রমণের জন্য ‘তৃতীয় মাত্রার’ অর্থাৎ ‘ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করুন’ (Reconsider Travel) পর্যায়ে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সেই সতর্কবার্তা থেকে সরিয়ে এখন ‘দ্বিতীয় মাত্রার’ বা ‘বাড়তি সতর্কতা’ (Exercise Increased Caution) পালনের কথা বলা হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।এই তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের পটভূমি তৈরি হয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মধ্য দিয়ে। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই সার্জিও গোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি খুদে বার্তার (SMS) মাধ্যমে এই সুখবরটি প্রদান করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।বিগত ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন তাকে সরাসরি স্বীকৃতি দিয়েছে। সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টায় ফিরে আসা এই স্থিতিশীলতা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভ্রমণ সতর্কতায় এই উন্নতির ফলে শুধু পর্যটন নয়, বরং শিক্ষা, চিকিৎসা এবং জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ (People to people contact) আরও সুদৃঢ় হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে বাংলাদেশ সরকার স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই টেকসই উন্নতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক অবস্থানে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ