প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
৪ কোটি টাকার সড়ক যেন তাসের ঘর
||
দুর্নীতির অভিযোগে কাঠগড়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান; জাইকার অর্থায়নে নির্মিত প্রকল্পে বাঁশের চাটাই ব্যবহারের নজিরবিহীন দৃশ্য।সাভারের ধামসোনা ইউনিয়নে জনদুর্ভোগ লাঘবের উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প এখন চরম বিতর্কের মুখে। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক ও তিনটি ব্রিজের উন্নয়ন কাজ শেষ হতে না হতেই তা ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী এবং সীমাহীন অনিয়মের কারণে উদ্বোধনের মাত্র দুই দিনের মাথায় সড়কের একাংশ ও ব্রিজের সংযোগস্থলের মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ধস সৃষ্টি হয়েছে।২০২২-২৩ অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি নলাই মুকেন্দ্র হাউস থেকে কারিগরপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত। সে সময় তৎকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ঘটা করে কাজের উদ্বোধন করলেও কাজ শেষ হতে প্রায় দুই বছর সময় লেগে যায়। সালেহ এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের কাজ পায়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে আসছিল।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের অনুপযোগী পুরনো ও নিম্নমানের ইট বিছানো হয়েছে। ঢালাই কাজে সিমেন্টের পরিমাণ ছিল নামমাত্র, যা হাতের ছোঁয়ায় ঝুরঝুরে হয়ে পড়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, রাস্তার দুই পাশে যেখানে শক্তিশালী গাইডওয়াল এবং মাটি সংরক্ষণের জন্য কংক্রিট ব্লক থাকার কথা, সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের চাটাই ও কাঠের অস্থায়ী বেড়া। বংশাই নদী সংলগ্ন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই অংশে এমন ঠুনকো ব্যবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।কসাইপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা আশা করেছিলাম এই সড়কটি আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে। কিন্তু যা দেখছি তা কেবল জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ। বড় ব্লকের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় সামান্য বৃষ্টিতেই সব ধসে নদীতে চলে যাচ্ছে।' আরেক বাসিন্দা মিষ্টু অভিযোগ করেন, সড়কের নকশায় বড় ধরনের কারচুপি করা হয়েছে। ইট বাঁচাতে অনেক জায়গায় কৌশলে বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে, যা দূর থেকে দেখলে সাধারণ কাঁচা রাস্তা বলে ভ্রম হয়।অভিযোগের তীর যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দিকে, সেই সালেহ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম সুমন দায় স্বীকার না করলেও কাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কাজ শেষ করতে না পারার পেছনে নানা পারিপার্শ্বিক কারণ ও অসহযোগিতা ছিল। তবে অনিয়মের ব্যাপারে তিনি সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফাইজুল ইসলাম এই ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী টেকসই গাইডওয়াল ও সুরক্ষা ব্লক স্থাপন না করা পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনও চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হবে না এবং ত্রুটি সংশোধন না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ