প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বিএনপির কৌশল: পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?
||
রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে নীতিনির্ধারকরা; আলোচনায় ফখরুল-হাফিজসহ শীর্ষ চার নেতাবাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন সমীকরণ। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার কোনো ধরনের ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ বা ঝুঁকিতে যেতে নারাজ ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমন একজনকে মনোনীত করতে চায় দল, যিনি কেবল দলীয় আস্থাই নয়, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সর্বজনগ্রাহ্য এবং সংকটে অবিচল থাকতে পারবেন।বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছে না দলটি। বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সংকট যেন তৈরি না হয়, সেটিই এখন বড় অগ্রাধিকার। দলের স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হয়। তাই এবার এমন কাউকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যার ভাবমূর্তি স্বচ্ছ এবং যিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম।বর্তমানে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। মার্জিত আচরণ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে তিনি সর্বমহলে সমাদৃত। তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দলের মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনতে হবে, যা একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এছাড়া স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আব্দুল মঈন খানের নামও দলের ভেতরে আলোচিত হচ্ছে।জানা গেছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পুরো বিষয়টি এখন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বিভিন্ন মহলের মতামত নিচ্ছেন এবং দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছেন। আগামী শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরীর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে প্রয়োজন যিনি দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে কাজ করতে পারবেন।সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, নিয়মিত সংসদ অধিবেশনেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে তারেক রহমানের চূড়ান্ত সংকেতের পর। দল ও সরকারের ভারসাম্য বজায় রেখে শেষ পর্যন্ত কে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ