প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
লিটন দাস নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক
||
বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক ও কৌশলগত নেতৃত্বে এক বড় ধরণের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ সময় ধরে তিন ফরম্যাটে আলাদা তিন জন অধিনায়কের মাধ্যমে দল পরিচালনার নীতি অনুসরণ করার পর, বোর্ড এখন আবারও দুই অধিনায়কের মডেলে ফিরে এসেছে। বিসিবির সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, টেস্ট ফরম্যাটে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্ব অপরিবর্তিত থাকলেও সাদা বলের ক্রিকেটে অর্থাৎ ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দলের কাণ্ডারি হিসেবে থাকবেন লিটন কুমার দাস। বিশেষ করে, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত লিটনকে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যা দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেহেদী হাসান মিরাজের ওয়ানডে নেতৃত্বের মেয়াদের অবসান ঘটল। মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে বিসিবি প্রধান তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের প্রতি অধিক মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে উল্লেখ করেছেন। বিসিবি সভাপতির মতে, তিন ফরম্যাটে তিনজন ভিন্ন অধিনায়ক থাকার চেয়ে দুজন দক্ষ নেতার অধীনে দলকে গুছিয়ে আনা বেশি কার্যকর। মিরাজ অধিনায়ক হিসেবে সফল ছিলেন এবং ২৪ ওয়ানডেতে ১০টি জয় উপহার দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটার মিরাজকে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে তার ফর্মের গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। বোর্ড মনে করছে, মিরাজকে নেতৃত্বের চাপ থেকে মুক্ত রাখা হলে তিনি পুনরায় একজন দক্ষ অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারবেন। এই পরিবর্তনের বিষয়ে মিরাজের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং তিনিও বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে লিটন দাসের সামনে এখন বিশাল দায়িত্ব। যদিও তিনি বর্তমানে পায়ের কুঁচকির ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন ডারউইন টেস্টে খেলতে পারছেন না, তবে সাদা বলের ক্রিকেটে লিটনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করতে চায় বোর্ড। লিটন এর আগে ৭টি ওয়ানডে ম্যাচে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ৩টি ম্যাচে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ২০২২ সালে ওয়ানডে সিরিজ জয় ছিল তার নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল মাইলফলক। বিসিবি মনে করছে, ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত লিটনকে দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব দিলে তিনি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি উভয় ফরম্যাটেই একটি স্থিতিশীল দল গঠন করতে সক্ষম হবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বিসিবি মূলত সাদা বলের ক্রিকেটে একজন একক নেতার অধীনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ক্রিকেটের চারটি প্রধান স্তম্ভ অর্থাৎ কী ঘটছে, কোথায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, কেন এই পরিবর্তন এবং কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে—এই সবকিছুর উত্তর বিসিবির এই ঐতিহাসিক রদবদলের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। এই নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে টাইগারদের ক্রিকেট আগামী দিনে কোন পথে হাঁটে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ