প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করার হুঁশিয়ারি গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর
||
দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, প্রকল্পের মান বজায় রাখা এবং সময়সীমা মেনে চলা কোনো করুণা নয়, বরং এটি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ব। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “প্রকল্পে যদি কোনো প্রকার অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে আমরা সেই প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড বা কালো তালিকাভুক্ত করতে দ্বিধা করব না। প্রয়োজনে তাদের টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরু করা হবে।” তিনি আরও জানান, সরকারি অর্থ তথা জনগণের আমানতের কোনো অপচয় বা তছরুপ বরদাশত করা হবে না।প্রকল্প তদারকিকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে প্রতিমন্ত্রী এক নতুন ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এখন থেকে প্রকল্পের কাজের গুণমান শুধুমাত্র জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রতিনিধি দলই যাচাই করবে না, বরং একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও তা নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও কয়েক ধাপ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার ওপর জোর দিয়ে আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জনের অসুস্থ প্রবণতা পরিহার করে ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার সাথে কাজ করতে হবে। স্বল্প লাভে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে জনগণের আস্থা অর্জনই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ হস্তান্তর করতে না পারলে কোনো অজুহাতই গ্রাহ্য হবে না।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এছাড়াও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগমসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ