প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
স্বচ্ছ কার্বন মার্কেট গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের ডাক পরিবেশমন্ত্রীর
||
বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর কার্বন মার্কেট গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি জানান, দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি শক্তিশালী ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ওপর এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফাহমিদা খানম।মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কার্বন মার্কেট কেবল জলবায়ু অর্থায়ন নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল সুযোগ বয়ে আনতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত অখণ্ডতা রক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সভার আলোচনায় উঠে আসে যে, প্যারিস চুক্তির আওতায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে বাংলাদেশের যে লক্ষ্যমাত্রা বা এনডিসি (NDC) রয়েছে, তা বাস্তবায়নে কার্বন মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, নিঃসরণ হ্রাস বা অপসারণ কার্যক্রমের সঠিক হিসাব এবং আন্তর্জাতিক মানের সঠিক যাচাইকরণ নিশ্চিত করতে হবে।বিশ্বব্যাংকের ‘পার্টনারশিপ ফর মার্কেট ইমপ্লিমেন্টাশন’ (PMI) কর্মসূচির সহযোগিতায় এই খসড়া ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে সীমিতভাবে কার্বন ট্রেডিং শুরু হলেও সরকারি পর্যায়ে এটি দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে উপকূলীয় অঞ্চলে দুই কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে কার্বন ক্রেডিটের বড় উৎস হতে পারে।প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ দ্রুততম সময়ে কার্বন মার্কেটে প্রবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ধরিত্রী কুমার সরকার খসড়া ফ্রেমওয়ার্কের ওপর বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন। উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেন, একটি সঠিক নীতিমালা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কার্বন মার্কেটের পূর্ণ সুবিধা ভোগ করা সম্ভব। সার্বিকভাবে, একটি পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরিতে এই সমন্বিত উদ্যোগ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ