প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
গাইবান্ধায় জলবায়ু সহনশীল পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পের উদ্বোধন
||
বন্যাপ্রবণ ও চরাঞ্চলে নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনগাইবান্ধার নদীবিধৌত ও বন্যাপ্রবণ জনপদের মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন’ (সিআরডাব্লিউএস) শীর্ষক একটি সময়োপযোগী পাইলট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে থাকা গাইবান্ধার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগটি মূলত একটি কার্যকরী সমাধান হিসেবে কাজ করবে। দাতা সংস্থা ওয়েস্ট অ্যান্ড ফিনিশ মনিটোরিয়াল-এর কারিগরি নির্দেশনায় ‘হোপ ফর দ্য পুওর’ (এইচএফপি) এবং ‘আশা’ যৌথভাবে এই প্রকল্পটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে। উদ্বোধনী সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় স্যানিটেশন উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বন্যাপ্রবণ এবং বিশেষ করে চরাঞ্চলগুলোকে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার সময় এই অঞ্চলগুলোতে নিরাপদ খাবার পানির সংকট তীব্র হয় এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রকল্পটি আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মাণ করবে। এর ফলে দুর্যোগকালীন সময়েও সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।প্রকল্পের আওতায় কেবল অবকাঠামো নির্মাণই নয়, বরং স্থানীয়দের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া হয়েছে। স্যানিটেশন ও পানি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার ঘটানো হবে, যা পরোক্ষভাবে এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাজারভিত্তিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন (এসডিজি-৬) এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ (এসডিজি-১৩) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গাইবান্ধা মডেল হতে পারে। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই উদ্যোগ সফল হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এবং তাদের স্বাস্থ্যের মান উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
সম্পাদক : ডা. সেলিম রেজা
কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ